Homeরাজনীতিনতুন কমিটিতে আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতারা - মেয়াদউর্ত্তীণ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি...

নতুন কমিটিতে আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতারা – মেয়াদউর্ত্তীণ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি গঠনে পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ

প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ


চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে আশার আলো। তবে কখন সম্মেলন হবে তাহা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। দীর্ঘ আট বছর একই কমিটি বহাল থাকায় নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এ অবস্থায় নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক একাধিক অভিজ্ঞ নেতা। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করায় উত্তর জেলা যুবদল অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তবে নতুন কমিটি গঠনে দুর ঝাপ লক্ষ্যে করা গেছে। ইতিমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ এবং সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এখনো দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ পদ প্রত্যাশীদের । দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম মুরাদ চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহিদুল আফছার জুয়েল, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আওরঙ্গজেব মোস্তফা
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নুরুল হুদা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইনুল আলম জনি, রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান শাকিল, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আনছুর উদ্দীন, ফটিকছড়ি উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোরশেদ হাজারি এবং উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস আকতার টিটু। এ ছাড়া আরও আলোচনায় রয়েছে বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ১০/১২ জনের নাম।
জানা যায়, অতীততে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার জেলা যুবদলের কমিটি গঠনে প্রভাব ছিল। এবার নতুন কমিটি গঠনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৪ জুন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এতে হাসান মোহাম্মদ জসিমকে সভাপতি, ইউসুফ চৌধুরীকে সিনিয়র সহসভাপতি, এস এম মুরাদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, এইচ এম নুরুল হুদাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং আওরঙ্গজেব মোস্তফাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরবর্তী সময়ে একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে ২৮ জন সহসভাপতি, ২৫ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১৭ জন সহসম্পাদক ও ১৮ জন সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি ৪০ জনকে সদস্য করা হয়। উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আনছুর উদ্দীন বলেন, নতুন কমিটি না হওয়ায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নেতৃত্বের সংকটও দেখা দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে সক্রিয় নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। তিনি বলেন, উত্তর জেলা যুবদলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সিনিয়র নেতারা তাঁকে প্রস্তাব দিলেও তিনি যুবদল করতে চান না। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান এবং আগামীতে বিএনপির কমিটি হলে সেখানে তাঁর নাম বিবেচনার অনুরোধ জানান।
উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান শাকিল বলেন, রাউজানে রাজনীতি করা কতটা কঠিন ছিল, তা মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করেছেন, তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি নিয়মিত রাউজান ও উত্তর জেলা যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, উত্তর জেলা যুবদলের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। এ জন্য তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতি আহ্বান জানান। উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস আকতার টিটু বলেন, নতুন কমিটি না হওয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান কমিটিতে পদ-পদবি নিয়ে থাকা অনেক নেতাকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা যায় না। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং এখনো সক্রিয় রয়েছেন, তাঁদের মধ্য থেকে যোগ্য নেতাদের বাছাই করে নতুন কমিটি গঠন করা উচিত।

উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইনুল আলম জনি বলেন, দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারুণ্যনির্ভর সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁর অতীতের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করছেন। দায়িত্ব পেলে সবার সহযোগিতায় উত্তর জেলা যুবদলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহিদুল আফছার জুয়েল বলেন, যুবদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দিয়ে শক্তিশালী ও মেধানির্ভর সংগঠন গড়ে তোলা কঠিন। মাঠপর্যায়ে ও তৃণমূলে যুবদলকে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ছাত্রদল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে। দায়িত্ব পেলে উত্তর জেলা যুবদলকে একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। উত্তর জেলা যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী এস এম মুরাদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নতুন জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় যুবদল তথ্য সংগ্রহ ও পদপ্রত্যাশীদের সাক্ষ

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments