ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। সভায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার প্রজনন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত সেপ্টেম্বর মাসে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে আটটি দলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এসব দলের মাধ্যমে ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মোঃ হাসিবুস সাত্তার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম (চাইনিজ রফিক), গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন অর রশীদ ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


