| পরিবারের দাবি, ‘জিন-আসরের’ সমস্যা ছিল; চিকিৎসকের ভাষায় অস্বাভাবিক মৃত্যু, প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ |
ভিশন২৪বাংলা ডেস্ক নিউজ
পানির জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী রোজিনা বেগম। কে জানত, সেই পানি নিয়ে ফেরার পথেই নেমে আসবে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত! হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। মেয়ের এমন অবস্থা দেখে চিৎকার শুরু করেন মা। মুহূর্তেই ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। দ্রুত নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিভে গেছে কিশোরী রোজিনার জীবনপ্রদীপ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়নের ১ ন ওয়ার্ডের ঠান্ডা মিস্ত্রিপাড়ায় ঘটে এই ঘটনা। নিহত রোজিনা বেগম ওই এলাকার কোরবান আলীর মেয়ে। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিয়ে হয়েছিল তার। তবে তার এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রক্তশূন্যতায় ভুগছিল রোজিনা। পাশাপাশি তার মধ্যে জিন ও আসরের প্রভাব ছিল বলেও ধারণা করতেন পরিবারের সদস্যরা। গত কয়েক দিন ধরে তার আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল বলে দাবি স্বজনদের। তিন দিন আগে স্থানীয় এক হুজুরের কাছ থেকে পানি পড়া, তাবিজ ও শরীরে মালিশের জন্য তেলও আনা হয়েছিল।
নিহতের নানা মো. নুরু জানান, প্রায় দেড় মাস আগে খুটাখালী ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে হয় রোজিনার। পরে পারিবারিকভাবে সেই বিয়ে মেনে নেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোজিনা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিল।
শুক্রবার বিকেলে বাড়ির জন্য পানি আনতে যায় রোজিনা। পানি নিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় সে। মেয়েকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তার মা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোজিনার মায়ের দাবি, মেয়ের মধ্যে জিন ও আসরের সমস্যা ছিল। কয়েক দিন ধরে তার আচরণেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে পরিবারের এসব ধারণার সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে চিকিৎসকের বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শোয়াইব মাহমুদ আবীর জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মাত্র ১৪ বছরের এক কিশোরীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কথিত অস্বাভাবিক আচরণ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা—কোন কারণে রোজিনার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিবারের ধারণা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকা এই রহস্যের জট খুলতে এখন অপেক্ষা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের।


