Homeসর্বশেষ খবরজনসচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ি বাড়ি মিলছে এডিসের লার্ভা

জনসচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ি বাড়ি মিলছে এডিসের লার্ভা

ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রশাসনের নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন গঠিত কমিটির এক সদস্য। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসন, পৌরসভা কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হতে হবে। গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরির কাজে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাতে গিয়ে মানুষের অসচেতনতার চিত্র উঠে এসেছে। অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফিকুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। তিনি জানান, শুরুতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালানোর সময় বাড়ি বাড়ি এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায়। শুধু ওই ওয়ার্ডেরই ৯০ থেকে ১০০টি বাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে জেলা প্রশাসন গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে পৌরসভার ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরামবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অবাক করার বিষয়, প্রায় এক মাস আগের বৃষ্টির পানি ড্রামে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সেই পানিতেই বংশ বিস্তার করছিল এডিস মশা। অভিযানে এমন সব স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেকের কল্পনারও বাইরে। এ পরিস্থিতিতে শুধু প্রশাসন বা পৌরসভাকে দায়ী না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে ড্রেনগুলোর অবস্থা ভালো নয়। তবে অভিযানে দেখা যাচ্ছে, ড্রেনের পাশাপাশি মানুষের নিজ বাড়ি ও আঙিনায়ও বিপুল পরিমাণ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। তাই অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা ফেলে দিতে হবে এবং পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতাই হতে পারে ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments