টাওয়ারে নেই ব্যাকআপ ব্যবস্থা, বছরের পর বছর ভোগান্তিতে হাজারো গ্রাহক; অভিযোগ করেও মিলছে না সমাধান
ভিশন২৪বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রবি ও এয়ারটেলের কয়েক হাজার গ্রাহক। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেই সংশ্লিষ্ট টাওয়ারের নেটওয়ার্ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে একদিকে জরুরি যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ইন্টারনেট ডাটা ও টকটাইম কিনেও ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকেরা। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অব্যবহৃত প্যাকেজের সুবিধা হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর নেটওয়ার্ক না থাকায় প্রয়োজনীয় ফোনকল করা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। অথচ প্যাকেজের মেয়াদ ঠিকই চলতে থাকে। ফলে টাকা খরচ করে কেনা ডাটা ও টকটাইমের পুরো সুবিধা ভোগ করার আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
টাকা দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা
গ্রাহকদের ভাষ্য, মোবাইল ইন্টারনেট এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, অনলাইন কার্যক্রম ও জরুরি তথ্য আদান-প্রদানেও এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার পরও ব্যবহার করতে না পারার বিষয়টি গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সমস্যার কথা জানানো হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় অনেক গ্রাহকই সেবার মান নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে সেবা ব্যবহারের জন্য আগাম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, সেই সেবা পাওয়া না গেলে গ্রাহকের ক্ষতির দায় কে নেবে? নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অব্যবহৃত ডাটা ও টকটাইমের বিষয়ে অপারেটর কর্তৃপক্ষের কার্যকর সমাধান থাকা উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা।
ব্যাকআপ ব্যবস্থার ঘাটতি, বাড়ছে ক্ষোভ
গ্রাহকদের অভিযোগ, টাওয়ারে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-ব্যাকআপ না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেটওয়ার্ক সেবা ব্যাহত হয়। তবে সংশ্লিষ্ট টাওয়ারগুলোর প্রকৃত ব্যাকআপ সক্ষমতা ও সমস্যার কারিগরি কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ কয়েকজন গ্রাহক একপর্যায়ে টাওয়ার ভাঙচুরের উদ্যোগও নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ পরিস্থিতি গ্রাহকদের অসন্তোষের গভীরতা তুলে ধরে। তবে অবকাঠামোর ক্ষতি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিকার চাওয়াই সমাধানের পথ।
নতুন অপারেটর নিয়ে প্রত্যাশা, পুরোনো অভিজ্ঞতায় শঙ্কা
সম্প্রতি আলীকদমে বাংলালিংক নেটওয়ার্ক চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে বিকল্প সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে রবি-এয়ারটেলের দীর্ঘদিনের সেবাগত সমস্যার অভিজ্ঞতা থেকে নতুন অপারেটরের সেবার মান নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।
গ্রাহকদের প্রত্যাশা, নতুন কিংবা পুরোনো—সব অপারেটরকেই গ্রাহকসেবার মান, নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সংযোগ সচল রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
দ্রুত সমাধান চান গ্রাহকেরা
আলীকদমের ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা নেটওয়ার্ক সমস্যার স্থায়ী সমাধান, টাওয়ারে কার্যকর বিদ্যুৎ-ব্যাকআপ নিশ্চিত করা এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে প্যাকেজ ব্যবহার করতে না পারা গ্রাহকদের অভিযোগ পর্যালোচনা করে উপযুক্ত প্রতিকারের ব্যবস্থাও চান তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, শুধু প্যাকেজ বিক্রি নয়, গ্রাহকের অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করাও মোবাইল অপারেটরের দায়িত্ব। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।



Somoy upojogi news thank you