সানজিদা আকতার রুনা, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে হতদরিদ্র, অসহায় ও মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) ও উপজেলা প্রশাসন। পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে মঙ্গলবার (২ জুন) এসব পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোট ১৩টি পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন ও ঘুমধুম ইউনিয়নের দুইটি দরিদ্র পরিবারকে সেলাই মেশিন এবং আটটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ছাগল, সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
এদিকে, ঘুমধুম সীমান্তে গত ২৪ মে মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিন পাহাড়ি পরিবারের মাঝেও মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে চারটি করে কম্বল, তিন হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং চাল, মসুর ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।
সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জাতীয় দলের ফুটবলার ওসাই মং মার্মা ছোটন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়াপাড়া গ্রামের লেয়ারা (৪১), অংকেমং (৫০) ও চিংকা অং (৪০) সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন।
সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলো বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, এই সহযোগিতা তাদের জীবিকা নির্বাহ ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এ সহায়তা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও জানান, বিজিবির চলমান মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





