মফিজুর রহমান, পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং সংরক্ষিত বন যেন এখন বালির খনিতে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন সংরক্ষিত বন কেটে বালি উত্তোলন করে পাহাড়সম স্তুপ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও বন মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের এক শ্রেণির কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও নীরব আশীর্বাদেই চলছে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন জাকের হোসেন। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিরোধী মতের লোকজনকে দমন-পীড়নের অভিযোগ থাকলেও এখন তার প্রধান ব্যবসা হয়ে উঠেছে সংরক্ষিত বন থেকে বালি উত্তোলন ও বিক্রি তার এসব কাজে সহযোগিতা করছেন বন কর্মকর্তারা।
১ আগস্ট সরেজমিনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বন বিট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মধুখালী এলাকার মোস্তাকের দোকানের পাশ ও ছনখোলা মসজিদের পাশে শত শত গাড়ি বালির বিশাল বিশাল স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আরও ছোট-বড় অসংখ্য বালির ডাম্প। স্থানীয়দের দাবি, এসব বালি সংরক্ষিত বন থেকে উত্তোলন করে সেখানে মজুত করা হয়েছে। পরে ডাম্পার ট্রাকযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিদিন ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করলেও প্রকাশ্যে থাকা এসব বালির স্তুপ দেখেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মুমিন ও বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান মামুনের সহযোগিতা ছাড়া সংরক্ষিত বন থেকে এভাবে বালি উত্তোলন সম্ভব নয়। তাদের দাবি, বন বিভাগের সম্মতি ছাড়া ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশই কঠিন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাঝে মধ্যে দায়সারাভাবে একটি-দুটি বন মামলা করা হলেও তাতে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ হয় না। জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে বন মামলা, অস্ত্র মামলা ও একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকলেও সেসবকে তিনি তোয়াক্কা করেন না বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মজুত থাকা বালির বাজারমূল্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। অথচ বন বিভাগ এখন পর্যন্ত বালিগুলো জব্দ কিংবা জিম্মায় নেওয়ার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকের হোসেনকে বালি উত্তোলন বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি, প্রতিবেদককে কালেকে সরাসরি দেখা করবেন বলে জানান।
টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মুমিন, আমরা মামলা দিয়েছি, আপনি একটু রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বলেন,আমার চাইতে রেঞ্জ কর্মকর্তা বেশি ভালো জানে।
বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পরিবেশ সচেতন মহল সংরক্ষিত বন থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





