শেরেবাংলা নগরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ডাকা হয়েছে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এমপিদের সরকারি আবাসন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে তিনি ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ঘটনাটি তদন্তে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। ফরেনসিক দলের কাজ শেষে পুলিশ কক্ষে প্রবেশ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করবে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মরিয়ম কখন গলায় ফাঁস দিয়েছেন—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর সময়, কারণ এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
কয়েক মাস আগে আলোচনায় এসেছিলেন মরিয়ম
মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে চলতি বছরের জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে থাকা তরুণীকে মরিয়ম খাতুন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ওই সময় গাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেন, মরিয়ম তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মরিয়মের প্রথম স্ত্রী ও তাঁর বাবাও বিয়ের দাবির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে এ-সংক্রান্ত প্রকাশিত কিছু নথি ও বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অসঙ্গতির কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
বিশেষ করে প্রকাশিত একটি বায়োডাটায় কথিত বিয়ের কয়েক দিন পরও মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সময়ে প্রকাশিত একটি কাবিননামার সত্যতা নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধোঁয়াশার কথা বলা হয়। এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল গাজী নজরুলকে
মরিয়মকে ঘিরে ওই বিতর্কের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয় নিয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
পরদিন ২৩ জুলাই দলটির পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বহিষ্কারের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন
ন্যাম ভবনের সরকারি আবাসনে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ কীভাবে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গেল, মৃত্যুর আগে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, ঘটনাস্থলে অন্য কেউ ছিলেন কি না এবং মৃত্যুর পেছনে কোনো অন্য কারণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসবে।
পুলিশ ইতোমধ্যে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডেকেছে। মরদেহের সুরতহাল, ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।


