সুফল চাকমা
বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি তিন পার্বত্য জেলায় তথা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবকে একেক সম্প্রদায় একেক নামে ডাকে। এর সুনির্দিষ্ট সূচনাকাল জানা না গেলেও, হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
চাকমাদের কাছে এটি বিজু, মারমা ও চাক সম্প্রদায়ের কাছে “সাংগ্রাইং” ত্রিপুরাদের বৈসু,তঞ্চঙ্গ্যাদের “বিষু” ম্রোদের “চাংক্রান” খেয়াংদের “সাংলান” নাম ভিন্ন হলেও উৎসবের আনন্দ এক ও অভিন্ন। বছরে একবার এই উৎসব ঘিরে সবাই আনন্দে মেতে উঠে, অতীতের দুঃখ-কষ্ট ভুলে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেয় নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে । ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান শুরু হয়েছে, গ্রামে গ্রামে চলছে ব্যাপক প্রস্তুটি। আগামী ১২এপ্রিল সকালে বিভিন্ন নদী-খালে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ফুল -নিবেদন করে জলবুদ্ধ ও গঙ্গাদেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, প্রার্থণা করে শুরু হবে চাকমাদের বিজু,তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু ও ত্রিপুরাদের বৈসু”র মুল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর টানা তিন দিন চলবে নানা আয়োজন।
তবে বান্দরবানে এবারের সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপনকে ঘিরে উৎসব উদযাপন পুরনো ও নতুন কমিটির দ্বন্ধের কারনে কিছুটা শঙ্কা তৈরী হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসব উদযাপন হবে কিনা -তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। প্রশাসনও জানিয়েছে, দ্রুত সমাধান না হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রত্যাশা———-
বিজু-সাংগ্রাইং-বৈসু, তুমি আনন্দে এসো
-ঝগড়া-বিবাদ হয়ে এসো না। তুমি ঐক্য হয়ে এসো, বিভেদ নয়। দুশ্চিন্তা নয়, নিয়ে এসো উচ্ছ্বাস ও প্রাণের উল্লাস। তুমি ধনী-গরীব,এমপি-মন্ত্রী,
রাজা-প্রজা কারও জন্য আলাদা হয়ে এসো না। তুমি সবার জন্য সমান হয়ে এসো। তুমি সাম্প্রদায়িকতা নয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে এসো। দাঙ্গা-হাঙ্গামা,মারামারি নয় -শান্তির বার্তা হয়ে এসো।
বন্দুকের গর্জন নয়, হৃদয়ের সুর হয়ে এসো।
হিংসা নয়, ভালোবাসা হয়ে এসো। তুমি এসো সুখ,শান্তি, সম্প্রীতি আর সবার কল্যাণের বার্তা নিয়ে।
সবাইকে বিজু,সাংগ্রাইং,বিষু,বৈসু, সাংলান, চাংক্রান এর আন্তরিক শুভেচ্ছা।





