Homeশিক্ষাআলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মারমা, ত্রিপুরা ও ম্রো ভাষা শিক্ষা...

আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মারমা, ত্রিপুরা ও ম্রো ভাষা শিক্ষা ক্লাবের উদ্বোধন

oplus_0

টি আই মাহামুদ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ, ভাষাচর্চার বিস্তার এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মারমা, ত্রিপুরা ও ম্রো ভাষা শিক্ষা ক্লাব-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে এবং ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড সদর দপ্তরের বাস্তবায়নে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। এছাড়া সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিশ্বায়নের প্রভাবে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বাস্তবতায় মাতৃভাষা শিক্ষা ক্লাব প্রতিষ্ঠা ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

আয়োজকরা জানান, ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন নিয়মিতভাবে মারমা, ত্রিপুরা ও ম্রো ভাষার বর্ণমালা, শব্দভাণ্ডার, উচ্চারণ, মৌলিক ব্যাকরণ, লোকজ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে পাঠদান করা হবে। পাশাপাশি ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, আলোচনা, প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, মাতৃভাষা সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং বহুত্ববাদী চেতনাও বিকশিত হবে। এ ধরনের কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ শিক্ষা ক্লাব চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাতৃভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে বৃত্তি প্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments