Homeঅপরাধ ও আইন“কাগজে রাস্তা, মাঠে নেই কাজ: আলীকদমে প্রকল্পের নামে কোটি টাকার হরিলুট!”

“কাগজে রাস্তা, মাঠে নেই কাজ: আলীকদমে প্রকল্পের নামে কোটি টাকার হরিলুট!”

সাংবাদিকের প্রশ্নে অফিস ছেড়ে পালালেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কে এম, নজরুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট

আলীকদম উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন, এমনকি একই প্রকল্প একাধিক নামে দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।

উপজেলা পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের জন্য টিআর, কাবিটা ও কাবিখা মিলিয়ে মোট ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, ৯৫.৩৯ টন চাল এবং ৯৫.৩৯ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খাল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে পুরোনো একটি রাস্তা—যা স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই নির্মাণ করেছিলেন—সেটিকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ১০.২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

একই ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১৫ কিলো এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও। এখানেও পুরোনো রাস্তা দেখিয়ে বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, একই প্রকল্পকে ভিন্ন নামে দেখিয়ে একাধিকবার অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এমন অনিয়ম প্রায় সব প্রকল্পেই লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নজরুল ইসলাম সরাসরি জড়িত। তিনি প্রকল্প সভাপতিদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাত করছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা না হলে প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া পিআইও কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একটি তালিকা টাঙানো রয়েছে। সাংবাদিকরা প্রকল্পের সঠিক তালিকা চাইলে পিআইও তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। সাংবাদিকরা তার বক্তব্য রেকর্ড করতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অফিস ত্যাগ করেন।

চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন জানান , আমার নামে কোন প্রকল্প নেই, যারা প্রকল্প পেয়েছে তাদের কাজগুলো আপনারা পরিদর্শন করে নিউজ করুন।

প্রকল্প সভাপতি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মতিন বলেন, রাস্তাটি আমি মানুষ দিয়ে করিয়েছি, আমি কাজ করিনি যারা বলেছে তাদের আমার কাছে নিয়ে আসুন। চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের প্রকল্পের সাইনবোর্ডে প্রকল্প সভাপতির পরিবর্তে তার স্বামীর মোবাইল নাম্বার দেয়ায় তারও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments