Homeসর্বশেষ খবরদখলমুক্ত করে বনায়ন করা হয়েছে ৭৫ একর বনভূমি, প্রশংসিত হয়েছেন বনবিট কর্মকর্তা

দখলমুক্ত করে বনায়ন করা হয়েছে ৭৫ একর বনভূমি, প্রশংসিত হয়েছেন বনবিট কর্মকর্তা

মফিজুর রহমান, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:


চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টইটং বনবিটের হারবাং মৌজার অর্ধশত বছর ধরে জবরদখলে থাকা প্রায় ৭৫ একর বনভূমি উদ্ধার করে সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করেছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত কেরনছড়ি, তারাবনিয়ার জুম, আবুল বশর বাপের ডুরি, মধুখালী ও হাছানের জুম এলাকার বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ-ফলদ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা রোপণপূর্বক নতুন বনায়ন সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো একসাথে ৭৫ একর বনভূমি উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টইটং বনবিট কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মোমিন। স্থানীয় বনবিভাগসূত্রে জানা গেছে, হারবাং মৌজার টইটং বিটের কেরনছড়ি, তারাবনিয়ার জুম, আবুল বশর বাপের ডুরি, মৌলভী হাছানের জুম ও মধুখালী এলাকার আরএস ১৮ ও বিএস ৬০ দাগের বহুবছরের দখলকৃত প্রায় ৭৫ একর বনভূমি উদ্ধার করে বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তোলে নেওয়া হয়েছে দখলকৃত জায়গার চারপাশের ঘেরাও। উদ্ধারকৃত কেরনছড়ি, আবুল বশর বাপের ডুরি, হাছানের জুম ও মধুখালী এলাকার ওই বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ-ফলদ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা রোপণ করা হয়। ইতোমধ্যে ওই বনায়ন কার্যক্রম সংক্রান্ত চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এ বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন দখল ও অব্যবস্থাপনায় থাকা বনভূমি উদ্ধার করে সেখানে নতুন করে গাছের চারা রোপণ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৭৫ একর বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে পরিবেশবান্ধব বনায়ন সৃষ্টি করা অত্যন্ত সাহসী ও প্রশংসনীয় একটা বড় উদ্যোগ, যা টইটং বনবিট কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মোমিন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছেন। এখন রোপণ করা চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং বনভূমির পুনরায় দখল ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ ও নজরদারি নিশ্চিত করা গেলেই সৃজিত এই বনায়ন পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টইটং বনবিট কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মোমিন বলেন, বনভূমি রক্ষা করা বনবিভাগের দায়িত্ব। সরকারি বনভূমি জবরদখলমুক্ত করে তা পুনরায় বনবিভাগের আওতায় এনে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেরনছড়ি, তারাবনিয়ার জুম, আবুল বশর বাপের ডুরি ও মধুখালী এলাকায় উদ্ধারকৃত বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন এসব চারা যাতে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাসহ তীক্ষ্ণ নজরদারি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন পুনরায় এই বনভূমি কেউ জবরদখল করতে না পারে সে লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় অতি গুরুত্বের সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments