আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর চালানোর জন্য পাঠানো ২০০ লিটার তেল নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষ থেকে ওই তেল পাঠানো হয়েছে। তবে সাবেক মন্ত্রী কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো তেল গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানতে চাইলে টিএইচও ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী কোনো তেল দেননি। তাঁর সঙ্গে কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধির সঙ্গেও আমার কোনো কথা হয়নি।’
তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে জেনারেটরের জন্য তেল দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি নিজস্ব ফান্ড থেকে কিছু তেল ব্যক্তিগত সহকারী আকতার নবী চৌধুরীর মাধ্যমে দেওয়ার কথা জানান। পরে আকতার নবী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তেল পাঠিয়ে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২০০ লিটার তেলের বিষয়ে জানতে চাইলে টিএইচও বলেন, ‘ফেসবুকে যে তেলের কথা দেখছি, এগুলো কে দিয়েছে আমরা জানি না। একটি ভ্যানে করে ড্রামে তেল এনে রেখে যাওয়া হয়েছিল। কে পাঠিয়েছে বা কীভাবে পাঠিয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত জানানো হয়নি। আমরা ওই তেল রিসিভও করিনি।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে কোনো সামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। পরিচয় ও উৎস নিশ্চিত না হয়ে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তেল গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে কোনো তেল রিসিভ করিনি। শুধু এমপি মহোদয় যে তেল পাঠিয়েছেন, সেটিই আমরা রিসিভ করেছি।’
এদিকে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০ লিটার তেল দেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তেলটি কার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল, কার নির্দেশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানো হয়েছিল এবং কেন তা গ্রহণ করা হয়নি—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেনারেটর চালাতে ২০০ লিটার তেল দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে ২০০ লিটার তেলের প্রকৃত উৎস এবং কার পক্ষ থেকে তা পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।





