টি আই মাহামুদ
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা আলীকদমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে অস্ট্রিয়া-ভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা সোনে ইন্টারন্যাশনাল এবং এর স্থানীয় সহযোগী সংস্থা তহজিংডং। দীর্ঘদিন ধরে দুই সংস্থা যৌথভাবে দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম এলাকায় শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, নামমাত্র ফিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং অসহায় পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থা দুটি। এসব উদ্যোগের ফলে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোর শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও সোনে ইন্টারন্যাশনাল ও তহজিংডং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যপরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার নজির স্থাপন করেছে সংস্থা দুটি। যৌথ উদ্যোগে আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫৫০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালীপাড়ায় একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে দেড় শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসে সাস্থ্য সেবা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে সোনে ইন্টারন্যাশনাল এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আল মামুন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় হোক বা স্বাভাবিক সময়ে—সোনে ইন্টারন্যাশনাল ও তহ্জিংডং সবসময় মানুষের পাশে থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তায় তাদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড আলীকদমের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সোনে ইন্টারন্যাশনাল ও সহযোগী সংস্থা তহ্জিংডংয়ের অবদান সামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই সংস্থার এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন।





