পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে তিন মাসব্যাপী উদ্যোগ
টি আই মাহামুদ
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ও অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা শাখার উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায় আলীকদম উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ২০ জন অসচ্ছল নারী অংশগ্রহণ করেছেন। আয়োজকদের আশা, প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারী সেলাই পেশাকে আয়ের উৎস হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা কমিটির সভাপতি এস এম জিয়াউদ্দিন জুয়েল-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান রানা-র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লামা উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘ কমিটির উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ-এর লামা-আলীকদম প্রতিনিধি মো. তানফিজুর রহমান, লামা কমিটির উপদেষ্টা ও দ্য ডেইলি সান-এর জেলা প্রতিনিধি মো. সাহাব উদ্দিন, বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা নুরুছাফা ভূঁইয়া বাবু, উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। এছাড়াও বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য মো. আয়াউতুল্লাহ, মো. আরাফাত ইসলামসহ সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। বিনামূল্যের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নারীদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তারা প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণার্থী জান্নাতুল মাওয়া তিশা, উপাইনু মারমা ও শ্যামলী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “আমরা এই সুযোগ পেয়ে খুবই আনন্দিত। প্রশিক্ষণ শেষে যদি একটি করে সেলাই মেশিন পাওয়া যায়, তাহলে নিজস্বভাবে কাজ শুরু করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব। এতে শুধু আমাদের নয়, আমাদের পরিবারেরও আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।”
স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।





