সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি দুর্যোগে মানবিক সহায়তা, বন্যার্তদের পাশে ৫৭ বিজিবি
টি আই মাহামুদ
টানা ভারী বর্ষণ, মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতিতে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার (১১ জুলাই) চৈক্ষ্যং ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৭৫ থেকে ৮০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
৫৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী, পদাতিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে রোয়াম্ভু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রের ৩৬টি, নজির মেম্বারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭টি এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেওয়া ২২টি পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতে সহায়তা এবং সম্ভাব্য উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি বজায় রাখছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলীকদমের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী ৫৭ বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, বরং বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে একটি বিনামূল্যের চিকিৎসা শিবিরে শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দাকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের সময় দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মাঠে সক্রিয় থাকা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করে।
ত্রাণ বিতরণকালে বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা, সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৫৭ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।





