সানজিদা আক্তার রুনা, নাইক্ষংছড়ি :

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উপজেলার সদর, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ভাঙন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে চলমান সড়ক সংস্কারকাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন সড়কে। সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রোগী, বাজারগামী মানুষ এবং যানবাহনকে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক স্থানে ছোট যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্ত এলাকার নিচু বসতিগুলোতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে সদর, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে ঘুমধুম এলাকায় একটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সোনাইছড়ি, দোছড়ি ও বাইশারীর কয়েকটি এলাকায় খালের তীব্র স্রোতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বঘোষণা ছাড়াই পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেকের ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও পাহাড়ি এলাকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান দুর্ভোগ অনেকটাই এড়ানো যেত। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অনুকূলে না এলে এবং ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নাইক্ষ্যংছড়ির নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

🖨️ প্রিন্ট নিউজচ্যানেল স্টাইল ফটো-কাট ব্যানার ডাউনলোড করুন
Download PhotoCut

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here