Vision24Bangla ডেস্ক নিউজ
সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও ক্ষোভের মুখে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তকে বিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সরাসরি গ্রাহকদের আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতেই দ্রুত এই পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে রিচার্জের সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ বা মিটার চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল, মিটারের প্রকৃত মূল্য অনেক আগেই আদায় হয়ে যাওয়ার পরও নিয়মিত এই অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে মিটার ক্রয় ও স্থাপনে নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
গ্রাহকদের ভোগান্তির নানা অভিযোগ
প্রিপেইড মিটার চালুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের নানা ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন,
রিচার্জ করার সময় হঠাৎ করে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়, কিন্তু তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
মিটারে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মিটার নষ্ট হলে বা ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সার্ভিস পাওয়া যায় না, ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।
জরুরি সময়ে রাত বা ছুটির দিনে রিচার্জ সুবিধা না থাকায় ভোগান্তি বাড়ে।
অনেক ক্ষেত্রে মিটারের ডিসপ্লেতে তথ্য বোঝা কঠিন হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হন।
এছাড়া গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল, প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন গোপন চার্জ—যেমন ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ বা ভ্যাট—সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় তারা প্রকৃত বিলের হিসাব বুঝতে পারেন না।
সিদ্ধান্তে স্বস্তি, তবে বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাসিক মিটার ভাড়া বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তাদের বিদ্যুৎ ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে। তবে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে কিনা—সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন তারা।
সাধারণ গ্রাহকরাও এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শুধু মিটার ভাড়া বাতিল নয়, বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নয়ন ও অতিরিক্ত চার্জের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।





