নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমঝোতা
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বান্দরবানের আলীকদম প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনে সভাপতি পদে এস.এম. জিয়াউদ্দিন জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবু জুয়েল নুরখান নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান।
শুক্রবার (১২ জুন) আলীকদম উপজেলা পরিষদের হলরুমে জুমার নামাজের পর ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে।
নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জসিম উদ্দিন। নির্বাচন পরিচালনায় ছিলেন রাজধানী টিভির প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. তৌহিদুল ইসলাম এবং কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি সাংবাদিক সুজন চৌধুরী। তাঁদের সহযোগিতা করেন লামা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম এবং থানচি প্রেসক্লাবের সভাপতি মংবাথোয়াই মার্মা অনুপম।
নানা জটিলতা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ২৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে ভোট উৎসব উপভোগ করেন।
ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে এস.এম. জিয়াউদ্দিন জুয়েল ১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দিপু তঞ্চঙ্গ্যা পান ৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আবু জুয়েল নুরখান।
অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ পদে মো. আতিকুর রহমান ১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুর রহমান পান ৬ ভোট।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. জসিম উদ্দিন এবং নির্বাচন পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি পদে এস.এম. জিয়াউদ্দিন জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক পদে আবু জুয়েল নুরখান এবং কোষাধ্যক্ষ পদে মো. আতিকুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রেসক্লাব ভবনে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা প্রবেশ করতে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের পক্ষে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, নারী ও শিশুসহ পরিবারের সদস্য, ভাই এবং প্রতিবেশীরা প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে লামা-আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
সমঝোতার ভিত্তিতে সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তাঁর ভাই ও সাবেক কমিটির সদস্য শাহ আলমের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নির্বাচনের সময় উপস্থিত ছিলেন লামা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল উদ্দিন, লামা সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ নেওয়াজ, কালবেলা পত্রিকার লামা প্রতিনিধি বিপ্লব দাশ, আলীকদম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মংক্যানু মার্মা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. রিটনসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে আলীকদম প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হয়েছে। নবনির্বাচিত নেতৃত্বের হাত ধরে প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।





