ভিশন২৪বাংলা ডেস্ক নিউজ

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে এক কলস পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, ঝিরি-ঝরনার পানি সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা—এমন দুর্ভোগই ছিল বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩২টি পাহাড়ি পাড়ার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে গেলে দেখা দিত তীব্র পানিসংকট। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে আশার আলো জ্বালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাস্তবায়িত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প।

উপজেলার থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন ও আটটি আউটলেটের মাধ্যমে পাহাড়ি ঝিরি থেকে পানি এনে এসব জনপদে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলীকদম উপজেলার থিংকুপাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম, এনডিসি, পিএসসি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাহাড়ি ঝিরি থেকে দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করে আটটি আউটলেটের মাধ্যমে থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাড়ায় পানি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রকল্পটি শুধু পানির সংকট নিরসনেই নয়, দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পানি সংগ্রহে ব্যয় হওয়া সময় ও শ্রম কমবে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়লে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাসেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ৩২টি পাহাড়ি পাড়ার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। স্থানীয় পর্যায়ে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বাড়লে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের সুফল নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন থিংকুপাড়ার কারবারি বিশ্ব ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘একসময় গ্রামের মানুষকে অনেক কষ্ট করে ঝিরি-ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে পান করতে হতো। শুকনো মৌসুমে ঝিরিগুলো শুকিয়ে গেলে পানির জন্য কোথাও যাওয়ার উপায় থাকত না। এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গ্রামের মধ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই প্রকল্প কেবল একটি পানি সরবরাহ অবকাঠামো নয়; বরং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং দুর্গম পাহাড়ি জনপদে নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৩২টি পাড়ার মানুষের কাছে নিরাপদ পানির সুবিধা কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।

🖨️ প্রিন্ট নিউজচ্যানেল স্টাইল ফটো-কাট ব্যানার ডাউনলোড করুন
Download PhotoCut

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here