লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালিতে অবস্থিত ‘রয়েল হিল’ রিসোর্ট দখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর, চুরি, প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রিসোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী মো. রাসেল চৌধুরী বাদী হয়ে লামার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক লামা থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী মো. রাসেল চৌধুরী (৩৬) লামা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনঝিরি এলাকার রায়হান চৌধুরীর ছেলে।

মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন—মো. সুলতান (৪৫), মো. জাফর (৩৮), মো. আইয়ুব (৩৫), মো. আরিফ (৩৬) ও মো. শাহাদাত (৪২)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা লামা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে অবস্থিত ‘রয়েল হিল’ রিসোর্টে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় বাদীর লোকজনের ওপর হামলা, মারধর ও জখমের পাশাপাশি রিসোর্টে ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় আনা হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৪২৭, ৩০৭, ৩৭০, ৩৮৬, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

বাদী মো. রাসেল চৌধুরীর অভিযোগ, ঘটনার পর মামলা না করার জন্য আসামিরা তাকে ও তার লোকজনকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মিরিঞ্জা ভ্যালি লামা উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোর একটি। পাহাড়, বন ও ভ্যালিকেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামোকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে পর্যটন অর্থনীতির বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় দখল-বিরোধ, হামলা, চাঁদাবাজি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তৈরি হলে পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ধরনের বিরোধ দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি এবং পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে লামার পর্যটন শিল্পের বিকাশ আরও গতিশীল হতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, মিরিঞ্জা ভ্যালির মতো সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার ঘটনা যাতে পর্যটন পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তবে এখনো আদালত থেকে মামলার কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। আদেশের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

আদালতের নির্দেশের পর তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কতটা প্রতিফলিত হয়, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

🖨️ প্রিন্ট নিউজচ্যানেল স্টাইল ফটো-কাট ব্যানার ডাউনলোড করুন
Download PhotoCut

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here