Home প্রযুক্তি কর্মশালা পাঁচ দেশে মানবিকতার বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ – অস্ট্রিয়ার SONNE-International

পাঁচ দেশে মানবিকতার বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ – অস্ট্রিয়ার SONNE-International

0
Oplus_131072

মোঃ তৌহিদুল ইসলাম,

শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশু, দুর্গম মরুভূমির যাযাবর জনগোষ্ঠী, পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বস্তির পথশিশু, শরণার্থী, দরিদ্র নারী এবং দুর্যোগকবলিত পরিবার—বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রান্তিক মানুষের পাশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও জরুরি মানবিক সহায়তা নিয়ে কাজ করছে অস্ট্রিয়াভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা SONNE-International।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি বর্তমানে ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও মালাউই—এই পাঁচটি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ওই বছরে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি সহায়তা পেয়েছেন।

২০২৪ সালে তাদের শিক্ষা কর্মসূচিতে ১ হাজার ৮৫০টির বেশি শিশু, স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ মানুষ এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিতে ২ হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইথিওপিয়া: মরুভূমিতে চিকিৎসা, পানি ও খাদ্যনিরাপত্তার লড়াই

ইথিওপিয়ার প্রত্যন্ত আফার অঞ্চলে ২০০৫ সাল থেকে কাজ করছে SONNE-International। প্রধানত আধা-যাযাবর ও পশুপালননির্ভর আফার জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তাদের কার্যক্রম। সংস্থার হিসাবে, প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

এখানে স্থায়ী হাসপাতালের পরিবর্তে দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করা হয়। গর্ভবতী নারী, মা ও শিশুর চিকিৎসা, টিকাদান, প্রসবকালীন সহায়তা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০২৪ সালে আফার অঞ্চলে ১২ হাজারের বেশি পরিবারের কাছে বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো হয়। একই সময়ে ২৯৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৩ হাজার ৩১২টি প্রসবে চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০টি প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা দেওয়া হয়েছে বলে বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে নারীদের পর্যবেক্ষণকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা পানি বিশুদ্ধকরণ সামগ্রী, সাবান ও অতিরিক্ত খাদ্য সহায়তাও বিতরণ করেন।

নারীর অধিকার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

আফারে নারী পরামর্শক ও Women Extension Workers-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, নারীর অধিকার, প্রসবকালীন সেবা, বাল্যবিবাহ এবং FGM (female genital mutilation)-এর মতো ক্ষতিকর প্রথা নিয়ে সচেতনতা চালানো হয়।

মরুভূমিতে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পশুপালন কঠিন হয়ে পড়ায় আফার জনগোষ্ঠীকে বিকল্প জীবিকার দিকে নিতে কৃষি প্রশিক্ষণও চালু করেছে SONNE। ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৬০ নারী ও ১২০ পুরুষ ছয় সপ্তাহের কৃষি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। গঠিত হয়েছে ২৪টি নারী কৃষি সমবায়, যেগুলোকে সৌরচালিত পানির পাম্প, বীজ, চারা ও সার দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। শস্য, ভুট্টা, পেঁয়াজ, পেঁপে, কলা ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ: পাহাড়ি শিশুদের শিক্ষা থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে চিকিৎসা

বাংলাদেশে SONNE-International-এর যাত্রা শুরু ২০০২ সালে। বান্দরবানের আলীকদম ও শেরপুরের ঝিনাইগাতীর প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরেও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।

২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি স্কুল ডরমিটরি, একটি ছাত্রাবাস, দুটি তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র, দুটি সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র, তিনটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে। প্রকল্প এলাকার মধ্যে আলীকদম, ঝিনাইগাতী, উখিয়া ও ঢাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। ২০২৪ সালে ৪৫ জন তরুণ-তরুণী এই সহায়তার আওতায় ছিল এবং ওই বছর দুজন তাদের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও আয় সৃষ্টি

কম্পিউটার, সেলাই ও তাঁত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। সংস্থাটির ২০২৪ সালের হিসাবে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে সেলাই, তাঁত ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪৫৩ তরুণী জীবিকা গড়ার দক্ষতা অর্জনে সহায়তা পেয়েছেন।

বাংলাদেশে গবাদিপশু প্রজনন/পালনভিত্তিক আয়বর্ধক প্রকল্পও রয়েছে, যার মাধ্যমে কয়েকটি পরিবার অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ পেয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

মেয়েদের আত্মরক্ষা

বাংলাদেশের SONNE স্কুলের ছাত্রীদের জন্য কারাতে ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণও পরিচালিত হয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মসূচিতে ১৪২ জন কিশোরী অংশ নিয়েছে বলে বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে আট বছরের স্বাস্থ্যসেবা

২০১৭ সালের রোহিঙ্গা সংকটের পর কুতুপালংয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করে SONNE-International। দুই চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করা হয়েছিল। চিকিৎসা, টিকাদান, পরীক্ষা, রেফারেল ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুতুপালংয়ের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ শেষ হয়েছে এবং বড় মানবিক সংস্থাগুলো পরবর্তী দায়িত্ব নিয়েছে। তবে আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা ছয়টি স্থানে চালু রাখার কথা জানানো হয়েছে।

ভারত: বিহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা

ভারতের বিহার রাজ্যে ২০১২ সাল থেকে কাজ করছে SONNE-International। ২০২৪ সালের হিসাবে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০০ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা, ছয়জন এতিম শিশুর যত্ন এবং আশপাশের প্রায় ৫ হাজার মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তার তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

বিদ্যালয়গুলোতে বই, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক বাগান, পরিবেশ শিক্ষা এবং শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের উদ্যোগ রয়েছে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা

বাসাধি এলাকায় ২০২৩ সাল থেকে SONNE-এর নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে গ্রামবাসীদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণও শুরু করা হয়।

নারীর দক্ষতা উন্নয়ন

বিহারে নারীদের জন্য কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ২৭ নারী ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। একই বছর অন্য একটি গ্রামেও সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়।

মেয়েদের কারাতে ও আত্মরক্ষা

২০১৪ সাল থেকে SONNE স্কুলগুলোতে মেয়েদের নিয়মিত আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ কিশোরী এই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

মিয়ানমার: পথশিশু, বস্তিবাসী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে

মিয়ানমারে SONNE-International-এর কার্যক্রম শুরু ২০০৮ সালে। মূল কার্যক্রম ইয়াঙ্গুন ও আশপাশের এলাকায়। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তাদের পরিবারের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রশিক্ষণ ও পারিবারিক সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পথশিশুদের জন্য ডে-কেয়ার

ইয়াঙ্গুনের দরিদ্র এলাকায় তিনটি Day Care Centre-এ প্রায় ১২০ পথশিশু নিয়মিত সেবা পেয়েছে। সেখানে খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা, শিক্ষা এবং স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি দেওয়া হয়।

শিক্ষা ও টিউশন

শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া ঠেকাতে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে টিউশন, স্কুল উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনেক শিশুর জন্মনিবন্ধন না থাকায় স্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়াতেও পরিবারগুলোকে সহায়তা করেন সংস্থার কর্মীরা।

মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা

ইয়াঙ্গুনের বস্তি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্যাম্পে মোবাইল স্বাস্থ্য দল চিকিৎসা পরীক্ষা ও ওষুধ বিতরণ করে। কিছু এলাকায় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়। জরুরি চিকিৎসার জন্য SONNE-এর Emergency Fund ব্যবহার করা হয়।

দক্ষতা প্রশিক্ষণ

দর্জি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ১০০-এর বেশি তরুণ প্রশিক্ষণ শেষে সনদ পেয়েছে। একই সময়ে ৮০-এর বেশি নারী সেলাই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে বলে সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারকে আয়মুখী সহায়তা

ডে-কেয়ারে থাকা শিশুদের পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ছোট ব্যবসা শুরু বা অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে আয় সৃষ্টির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। বন্যা বা বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত, কম্বল, মশারি ও স্কুল উপকরণ বিতরণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ভূমিকম্পে জরুরি সহায়তা

২৮ মার্চ ২০২৫ মিয়ানমারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর SONNE স্থানীয় দলের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ইনলে লেক এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয় এবং পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তা শুরু হয়। সংস্থার প্রকাশিত আপডেট অনুযায়ী, প্রথম দিকে প্রায় ১,৫০০ মানুষ আশ্রয় নেওয়া একটি স্থানে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

মালাউই: মেয়েদের স্কুলে ফেরানো ও আত্মরক্ষার উদ্যোগ

মালাউই SONNE-International-এর তুলনামূলক নতুন কার্যক্রমের দেশ। ২০২৪ সালে সেখানে কাজ শুরু হয়। Blantyre, Ntcheu ও Mangochi জেলায় শিক্ষা, মেয়েদের ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

দুটি স্কুলে মোট ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় খেলাধুলার মাঠও তৈরি করা হয়েছে।

শিশুবিবাহ থেকে স্কুলে ফেরানো

Mangochi জেলায় ১১ জন মেয়েকে স্কুল শেষ করার জন্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্কুল ফি, ইউনিফর্ম, শিক্ষা উপকরণ ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার উদ্যোগ রয়েছে।

জোরপূর্বক শিশুবিবাহ থেকে বেরিয়ে আসা মেয়েদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনাও প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্থানীয় অংশীদার সংগঠনের মাধ্যমে পরিবার ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে মেয়েদের শিক্ষায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খেলাধুলা ও আত্মরক্ষা

মালাউইতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, খেলাধুলার অবকাঠামো তৈরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক খেলাধুলা ও আত্মরক্ষা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে মেয়েদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাঁচ দেশের কার্যক্রমে যে চিত্র

SONNE-International-এর ২০২৪ সালের সামগ্রিক প্রতিবেদনে তিনটি মূল ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নারী ক্ষমতায়ন। পাঁচটি দেশে শিক্ষা কার্যক্রমে ১ হাজার ৮৫০ শিশুকে সহায়তা, চারটি দেশে স্বাস্থ্য কার্যক্রমে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি চিকিৎসা ও পরীক্ষা এবং পাঁচটি দেশে ২ হাজারের বেশি নারী ও কিশোরীর ক্ষমতায়নমূলক কার্যক্রমের তথ্য প্রতিবেদনে রয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে মোট ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি ডে-কেয়ার সেন্টার, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি স্কুল হোস্টেল, একটি ছাত্রাবাস ও একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতে দুটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ৫৬টি মোবাইল স্বাস্থ্য ক্যাম্প এবং ইথিওপিয়ায় ১২ হাজারের বেশি পরিবারের কাছে বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর তথ্য রয়েছে।

নারী ক্ষমতায়নে একদিকে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে সেলাই, তাঁত ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ; অন্যদিকে ইথিওপিয়ায় মাতৃস্বাস্থ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ ও নারী সমবায়; আর বাংলাদেশ ও ভারতে মেয়েদের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে।

মানবিক সহায়তা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

SONNE-International-এর পাঁচ দেশের কার্যক্রমের ধরন এক নয়। কোথাও মরুভূমির যাযাবর জনগোষ্ঠীর জন্য মোবাইল চিকিৎসা ও কৃষি সহায়তা, কোথাও পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা, কোথাও বস্তির পথশিশুদের খাবার-চিকিৎসা-শিক্ষা, আবার কোথাও শিশুবিবাহ থেকে ফিরে আসা মেয়েদের স্কুলে ফেরানোর উদ্যোগ চলছে।

সংস্থাটির প্রকল্পগুলোর তথ্য থেকে দেখা যায়, তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্থানীয় সক্ষমতা তৈরিকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটির মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাস, সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা—জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চারটি ক্ষেত্র রয়েছে।

অস্ট্রিয়া থেকে পরিচালিত এই সংস্থার কার্যক্রম তাই পাঁচটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় ভিন্ন রূপ নিয়েছে—কখনো একটি দুর্গম পাহাড়ি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পাঠদান, কখনো মরুভূমিতে মোবাইল স্বাস্থ্যকর্মীর পদযাত্রা, কখনো শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসা, আবার কখনো বস্তির শিশুর হাতে বই কিংবা দরিদ্র নারীর হাতে জীবিকার দক্ষতা।

SONNE-International-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই বহুমুখী কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু একটাই—প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরতার সুযোগ বাড়ানো।

🖨️ প্রিন্ট নিউজচ্যানেল স্টাইল ফটো-কাট ব্যানার ডাউনলোড করুন
Download PhotoCut

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version