আনোয়ারা(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

আনোয়ারায় এনসিপি নেতা মোঃ দেলোয়ারের প্রভাবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মারামারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও যুবদল নেতা মো. আজম খাঁন। এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেওয়ায় এ মিথ্যা মামলা করেছে দাবি ভুক্তভোগীর।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালাবিবির দিঘীর মোড় এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজম খাঁন বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা উপজেলার চাতরী-চৌমুহনী বাজারের হাজী এ আলী শপিং কমপ্লেক্সেের ব্যবসায়ী ও কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনোয়ারা মেডিকেলে গিয়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর এনসিপি নেতা মো. দেলোয়ার হোসাইন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করে ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চাপাতি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি আনোয়ারা মেডিকেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আনোয়ারা থানার এসআই মুবিন এবং হাজী এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দুজন ব্যবসায়ী তার সাথে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি এই হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্য ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ ফোরকান জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে চাতরী চৌমুহনী বাজারের একটি দোকান নিয়ে দেলোয়ারের সাথে দ্বন্দ্ব হয়। এ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তিনিসহ তার গ্যাং নিয়ে আমাকে দৌড়ে নিয়ে এলাকার একটি কবরস্থানের মধ্যে অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। পরে আমার ভাইকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করে। তিনি দাবি করেন, এনসিপি নেতা দেলোয়ারের বাড়ি বাঁশখালী হলেও আনোয়ারায় ঘরজামাই থেকে এখানে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ভূমিদস্যুসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। তার নির্যাতনে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী। 

এনসিপি নেতা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে কর্ণফুলী থানায় মাদক মামলা সহ আনোয়ারা ও বাঁশখালী থানায় আরও দুটি মামলা রয়েছে। 

এবিষয়ে দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নয়। 

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুনায়েত চৌধুরী জানান, তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা ছিল। তবে ওই মামলায় ওয়ারেন্ট হয়নি। নতুন করে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

🖨️ প্রিন্ট নিউজচ্যানেল স্টাইল ফটো-কাট ব্যানার ডাউনলোড করুন
Download PhotoCut

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here