Homeঅর্থনীতি ও ব্যবসানাইক্ষ্যংছড়ির পর্যটন স্পট নিয়ে Cox TV'কে সাক্ষাতকার দিলেন সাংবাদিক সানজিদা আকতার রুনা

নাইক্ষ্যংছড়ির পর্যটন স্পট নিয়ে Cox TV’কে সাক্ষাতকার দিলেন সাংবাদিক সানজিদা আকতার রুনা

নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেকে আমরা ‘সোনালী অতীত বন্ধু মহল’ গ্রুপের সদস্যরা এক আনন্দঘন পিকনিকে অংশগ্রহণ করি। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এই লেকে কাটানো সময় আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত স্মরণীয় ও উপভোগ্য। পিকনিক চলাকালে কক্স টিভির প্রতিনিধিরা উপস্থিত হলে আমি তাদের কাছে উপবন লেকের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিষয় তুলে ধরার সুযোগ পাই। একই সঙ্গে আমি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলি যে, লেকটির সৌন্দর্য ও পর্যটক আকর্ষণ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করতে এখানে ক্যাবল কার স্থাপন করা যেতে পারে। পাহাড়, বন ও লেকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে ক্যাবল কার চালু হলে তা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
উপবন লেকে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে কায়াকিং বোটের মনোমুগ্ধকর ব্যবস্থা, যেখানে লেকের স্বচ্ছ জলে ভেসে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করা যায়। লেকের প্রবেশপথে নির্মিত ওয়াচটাওয়ার থেকে দূরের পাহাড়, সবুজ বনভূমি ও লেকের বিস্তৃত জলরাশি এক নজরে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আনন্দের উৎস। শিশুদের বিনোদনের জন্য কিডস জোনে বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে, যা পারিবারিক ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে। লেকের মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা রেস্টুরেন্টে বসে দর্শনার্থীরা সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। পানির ফোয়ারা, বিভিন্ন আলোকসজ্জা এবং সবুজের সমারোহ স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
লেকের অন্যতম আকর্ষণ হলো গাছের ওপর নির্মিত পাখির বাসার মতো নান্দনিক বিশ্রামকক্ষ। এসব স্থাপনায় বসে প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটানো যায়। ছোট ও বড় সবার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোলনা, যা বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। লেকে পৌঁছানোর উঁচুনিচু পাহাড়ি রাস্তা ভ্রমণকারীদের মধ্যে এক ধরনের রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। পথের দু’পাশের সবুজ প্রকৃতি ও পাহাড়ি দৃশ্য যাত্রাপথকেই আনন্দময় করে তোলে।
নিরাপত্তার বিষয়েও উপবন লেক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সচেতন। পুরো এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা এবং সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন। লেকের বাইরেও রয়েছে ঘরোয়া পরিবেশে খাবার গ্রহণের সুন্দর ব্যবস্থা, যেখানে স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এ কারণে ভ্রমণকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারেন।
যারা নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে চান, তাদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর রেস্টহাউজ। এখানে এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে, যা বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটকদের চাহিদা পূরণ করে। রেস্টহাউজে অবস্থান করে পর্যটকরা সহজেই চা-বাগানের সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও শৈলচূড়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, গয়াল ফার্মের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, পাহাড়ি ঝর্ণার স্নিগ্ধতা এবং কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ব্যতিক্রমী আকর্ষণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও পরিবার নিয়ে অবকাশ যাপন করতে আগ্রহীদের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেক একটি আদর্শ গন্তব্য। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আরও কিছু পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই লেক ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments