আনোয়ারা(চট্টগ্রাম )প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রান্নাঘরের চুলা থেকে লাগা আগুনে চারটি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। ঈদের কয়েক দিন পরে ঘটে যাওয়া এ অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও নতুন কেনা ঈদের কাপড়সহ প্রায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এদিকে আগুনে সব পুড়ে গেলেও অক্ষত ছিল পবিত্র কোরআন শরীফ।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও গ্রামের নুরুজ্জামান সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শাহেদ (৪০), তাঁর দুই ভাই নুর আমিন (৪৫) ও নুর আজিজ (৪০) এবং মো. হান্নান। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দুটি গরু পুড়ে মারা যায় এবং বসতঘরের সব মালামাল আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে একটি শিশু রান্নাঘরে চুলায় রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময় ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এলাকাবাসী প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে সরু রাস্তার কারণে পানিবাহী একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে অন্য ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় আধা ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী মো. শাহেদ বলেন, হঠাৎ আগুন দেখে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। প্রতিবেশীরা আমাকে বের করে আনলেও ঘরের কিছুই বাঁচাতে পারিনি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মো. হান্নান জানান, কৃষিকাজ করছিলাম। খবর পেয়ে এসে দেখি সব শেষ। আগুনে আমার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে গেছে।

নুর আজিজের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, ঈদের জন্য বাচ্চাদের কাপড় কিনেছিলাম। কিছুই বের করতে পারিনি। এখন পরনের কাপড়টুকুও মানুষের দেওয়া।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবদুল্লাহ জানান, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে নির্ণয় করা হবে।

🖨️ প্রিন্ট নিউজচ্যানেল স্টাইল ফটো-কাট ব্যানার ডাউনলোড করুন
Download PhotoCut

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here