ডেস্ক রিপোর্ট
রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশেই বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অকল্পনীয় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতিদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
ইতিপূর্বে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া প্রকল্পের সাইনবোর্ড প্রদর্শন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো কাজ না করেই প্রকল্পের নাম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মধ্যেই এবার নতুন করে অভিযোগ উঠেছে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাইছড়ি বৈক্ষমঝিরির মুখ থেকে সোনাইছড়ি পাড়া অভিমুখে একটি ব্রীক সলিং সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়ে।
অভিযোগে জানা যায়, প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শাহজাহান সিরাজের তত্ত্বাবধানে নির্মিত সড়কটিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় বক্স নির্মাণ করা হয়নি, ইটের নিচে বালির স্তর দেওয়া হয়নি এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া সড়কের উপরিভাগে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। মাঝখানে একটি ভাঙা বক্স কালভার্টের উপর দিয়েই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পটির মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে কাজের মান ও পরিমাণ অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে দেড় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়নি বলে তাদের ধারণা। কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় এলাকাবাসী বাধা দিলে প্রকল্প সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, “এমন নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। কাজটি শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।”
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ধারাবাহিকভাবে ওঠা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।





