এতিমদের খাবার, ২০০ চারা বিতরণ, শীতে ৫০০ কম্বল দেওয়ার ঘোষণা
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ আলীকদমে মানবিক সহায়তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দাউদি বোহরা সম্প্রদায়। বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৈশ্বিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট রাইজ’ (Project Rise)-এর আওতায় এতিম শিশুদের জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ, বৃক্ষরোপণ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা বিতরণসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী শীত মৌসুমে দুর্গম এলাকার অসহায় মানুষের মধ্যে ৫০০টি কম্বল বিতরণ, আটটি গ্রামে রিংওয়েল স্থাপন এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
দাউদি বোহরা সম্প্রদায় (চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ) পরিচালিত এ কর্মসূচিতে প্রজেক্ট রাইজের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন সাইফুদ্দীন জালালী, হুজায়ফা ফাখরী, হামজা জালালী ও আবদে আলী শাকির।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি আলীকদম উপজেলার পাঁচটি এতিমখানা পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় জিয়াউল উলুম ইউনুছিয়া মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানার ১০০ জন এতিম শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক সহায়তার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
পরিবেশ রক্ষায় ফলদ চারা বিতরণ
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিয়েছে আয়োজকেরা। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে উন্নত জাতের আম ও আপেল কুলের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলার ১০টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা ও মসজিদে মোট ২০০টি চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চারা বিতরণের তালিকায় রয়েছে জিয়াউল উলুম ইউনুছিয়া মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা; আল হেরা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা; আলীকদম আজিজিয়া ফয়জুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা; রেপারপাড়া আলীকদম ইসলামিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা; শিবাতলী পাড়া আমতলী শাহ মজিদিয়া হিফজখানা ও এতিমখানা; রেপার পাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা; তারবিয়াতুল উমরান মাদ্রাসা; কানা মাঝি উলুম মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানা এবং আল আকসা জামে মসজিদসহ স্থানীয় কয়েকটি মসজিদ ও মাদ্রাসা।
দুর্গম জনপদে আরও সহায়তার পরিকল্পনা
দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, আলীকদমে এটি তাঁদের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের মধ্যে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া পাহাড়ি জনপদে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় আটটি গ্রামে রিংওয়েল স্থাপন এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে একাধিক মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আগেও পাশে দাঁড়িয়েছিল সংগঠনটি
এর আগে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ পবিত্র রমজান উপলক্ষে আলীকদমের দুর্গম এলাকার ৮০টি অসহায় পরিবারের মধ্যে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছিল দাউদি বোহরা সম্প্রদায়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে এতিম শিশুদের সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সেবাপ্রাপ্তিতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে থাকা পাহাড়ি জনপদে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে। তবে ঘোষিত কম্বল বিতরণ, রিংওয়েল স্থাপন ও মেডিকেল ক্যাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অসহায় পরিবারগুলোর জন্য তা আরও কার্যকর সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।


