খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাগানে নেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১২ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে শিশুটির মা তার মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলেকে আনতে বাড়ি থেকে বের হন। যাওয়ার সময় ছয় বছরের শিশুটিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে দেখে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে দুই কিশোর শিশুটিকে খেলানোর কথা বলে সেখান থেকে ডেকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে শিশুটির প্রচুর রক্তপাত শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনায় আটক দুই কিশোর হলো—ইসলামপুর আতিক্কা পাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল কবির (১৪) এবং নুরুল আমিন বৈদ্যের ছেলে নাজিমুল ইসলাম (১২)।
আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন বলে জানা গেছে।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়সার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পর আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় অভিযুক্ত দুই কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সারাদেশে শিশু ধর্ষণের উদ্বেগজনক চিত্র
লামার এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো পরিসংখ্যান নয়—চলতি বছরেও দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে শিশু ধর্ষণের ২৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে নারী ও শিশু মিলিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৬৪১টি।
এর আগে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-জুনের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ছয় মাসে দেশে ২৩৮ শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে মোট ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আরেক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্তই অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার এবং আরও ৪৬ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর ১৪ শিশুকে হত্যার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার এই ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)ও ২০২৫ সালে বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার সাম্প্রতিক বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।


