কমল কৃষ্ণ দে
মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা:-
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, লজিস্টিকস ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা উপকরণ হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও সেবার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন দত্ত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আলিশ ত্রিপুরা জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মঈনউদ্দিন রাজু, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস অফিসার জোনাকি ত্রিপুরা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ।
প্রধান অতিথি ডা. শোভন দত্ত মাটিরাঙ্গা উপজেলার মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ সহায়তা প্রদানের জন্য হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, মাটিরাঙ্গার দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের অপুষ্টি দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি হস্তান্তর করা সরঞ্জামগুলোর যথাযথ ব্যবহার, নিরাপদ সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিশুদের জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।এ লক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে ডা. শোভন দত্ত মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ইউনিট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিশুদের চিকিৎসা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও সেবাদান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি শিশুদের জন্য একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। সময়মতো শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। মাটিরাঙ্গার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য এ ধরনের জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা আরও কার্যকর করতে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।


