সৈয়দা ফারিয়া জাহান
তোমাকে দেখেছি সে-ই কবে, কোনো এক মেঘলা বিকেলের আধো-আলো আর আধো-ছায়ায়… সময় থমকে গিয়েছিল সেদিন, আর আমার সমস্ত পৃথিবী আটকে গিয়েছিল তোমারই চোখে।
তোমাকে দেখার এই আকুল তৃষ্ণা আমার মিটবে না কোনোদিন, এই তীব্র হাহাকার আমার সাথে বয়ে বেড়াব আমৃত্যু। কেবল আর একটিবার তোমায় দেখার ব্যাকুল বাসনা আমার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়কে প্রতি মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে জাগিয়ে তোলে। পৃথিবীর সমস্ত অধিকার হারিয়েও, অবাধ্য মনটা কেবল একটিবার—আর মাত্র একটিবার তোমায় দেখতে চায়।
কত নিস্তব্ধ, নিশুতি রাত আমাকে নির্মমভাবে মনে করিয়ে দেয়—কেউ একজন ছিল ওই অল অদৃশ্য দরজার ওপাশে, কেবল আমারই অপেক্ষায়। নির্ঘুম প্রতিটি সেকেন্ডের বুকচেরা শব্দে আমি একটু একটু করে তোমার স্মৃতিতেই বিলীন হয়ে যাই।
তুমি কি কোনোদিন টের পেয়েছো—কত শত রাত আমি চোখের এক ফোঁটা পাতাও এক করতে পারিনি? কত বিষণ্ণ বিকেলে তোমার অভাব সঙ্গী করে আর একা হাঁটা হয়নি? কত ক্লান্ত দুপুরে বেদনার ভারে একমুঠো খাদ্যও মুখে তুলতে পারিনি?
না, তুমি তার কিছুই জানতে পারবে না। তুমি কখনোই জানবে না, বুকে নিশ্বাস চেপে রেখেও কীভাবে প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থেকে মৃত্যুর নিঃশব্দ যন্ত্রণা ভোগ করা যায়। তুমি কোনোদিন বুঝবে না, নিঝুম রাতের অন্ধকারের একাকিত্ব কতটা ভয়ংকর, কতটা গ্রাসকারী হতে পারে।
কী অসম্ভব আর নির্মম এক সত্য, তাই না? তুমি আর আমার নেই—এমনকি কালের কোনো এক বাঁকেও তুমি আর কখনো আমার হবে না। আর একটিবারও তোমায় ছোঁয়ার কোনো অধিকার আমার রইল না, তোমার ওই হাত ধরে থমকে দাঁড়ানোর দিনগুলো চিরতরে হারিয়ে গেল। এক বুক অবুঝ আকুতি আর পূর্ণতা না পাওয়া হাহাকার নিয়েই হয়তো একদিন আমি চিরকালের মতো লুটিয়ে পড়ব এই পৃথিবীর স্নিগ্ধ, কোমল মাটিতে।
তবুও আমার সমস্ত শূন্যতা, নীরব কান্না আর নিঃশ্বাসের বদৌলতে—তুমি খুব ভালো থেকো, আমার প্রিয়…।


