"সকাল"

সৈয়দা ফারিয়া জাহান
একটি সুন্দর সকাল তোমায় আমি উপহার দিতে চাই।
পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ,দক্ষিণা হাওয়া,সকালের রৌদ্রস্নাত প্রকৃতি এই সবকিছু আমি তোমাকে দিতে চাই।
তুমি কি কখনো খেয়াল করেছো ঘাসের উপর হেঁটে চলা পিঁপড়েরা কতো অদ্ভুত সুন্দর?
টিটিসির মাঠ তোমার খুব চেনা পরিচিত তবুও আমি তোমায় একটি সকাল দিতে চাই ঠিক আজকের সকালের মতো।ভেজাল পৃথিবীতে তোমার জন্য এতটুকু নির্ভেজাল ভালোবাসা আমি দিতে চাই।তুমি কি আসবে সেই রাঙ্গামাটির মতো?ইচ্ছে হলে কুয়াকাটার সাগরের মতো ভেসেও তুমি আসতে পারো।তুমি যেভাবেই আসো না কেন তোমার জন্য এই সকাল আমি উপহার দিতে চাই।তোমার হেঁটে চলা প্রতিটি রাস্তা আমাকে বার বার মনে করিয়ে দেয় তোমার কাছে আমি ঋণী।
এই সুন্দর সকালের বিনিময়ে কি তুমি আমায় ক্ষমা করবে?
তোমাকে নিয়ে উঁচু পাহাড়ে হেঁটেছি দেখেছি সমুদ্রের গর্জন তবে তোমাকে নিয়ে টিটিসির সকাল দেখিনি।তুৃমি কি সকল কাজ ফাঁকি দিয়ে আসবে দেখতে এই সুন্দর কাক ডাকা সকাল?
তোমার কাছে আমার প্রার্থনা তুমি পৃথিবীর সৌন্দর্য ভুলে যেও না,আরো অনেক অচেনা পথ পাড়ি দেয়া বাকি তোমার সাথে।দক্ষিণা বাতাসে শরীর যখন শিউরে উঠে তখন মাটির স্নিগ্ধ ঘাসে আমি তোমার চাহনি দেখি বার বার।তবে কি আমি তোমায় ভালোবাসি? _________________________________
_________________________________
____________________________________________________________________________________________________
_____________
_____________
"কদর"
____

সৈয়দা ফারিয়া জাহান
বিএড এর ক্লাস শেষ করে এয়ারপোর্ট যাচ্ছি।
ভীষণ গরম পড়েছে,ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলাচল মুস্কিল হয়ে উঠেছে।
কবে যে শান্তির নিশ্বাস ফেলা যাবে কে জানে তবে এখন আর গ্রামে গিয়েও আগের শান্তি নেই।সব কিছুই কেমন যেন হারিয়ে গেছে।নিজের গ্রামে গেলেও সবই অচেনা লাগে।উঁচু উঁচু দালানের ভীড়ে মানুষ গুলোর জীবন আটকে গেছে।বাবা যখন বেঁচে ছিলেন আমি তখন বেশ ছোট ছিলাম, সবে মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।তখন কার সময় কিংবা আরো ছোট কালে দেখেছি আশেপাশে কারো বাসায় ভর্তা করলেই বাবা কে পাঠিয়ে দিত।বাবা প্রচন্ড ঝাল খেতেন,মা তরকারিতে ঝাল কম দিলে বাবা হাতে কাঁচা মরিচ নিয়ে বসতেন।মা অবশ্য ঝাল খেতে পারে না।আমরা ভাই বোন বোধহয় মায়ের মতোই হয়েছি, তবে এখন আগের থেকে বেশ ভালো ঝাল খেতে পারি।ঢাকা শহরে সারাদিন চাকুরি কিংবা সারাদিন ক্লাস করে বেশির ভাগ সময় খেতে হয় বাহিরে। যার ফলেই হয়তো অনেক রকম খাবার খেতে শিখেছি, মাঝে মাঝে তো হোটেলে খেতে বসে বলি, মামা পেঁয়াজ দাও সাথে কাঁচা মরিচ দিও দুইটা।
তবে শহরের কোলাহলে আমার বেশ বিরক্তি আসে মাঝে মাঝে।এই ধরুন কোনো একটা আন্দোলন হচ্ছে সেজন্য ঢাকা কলেজের ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে।সারাদিন রাস্তা বন্ধ। বাসায় ফিরে যাবার উপায় নেই।সেই তখন কলেজ স্ট্রীটে বসে চা আর সিঙ্গারা খাওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ কি।
মাঝে মাঝে নিউমার্কেটে গিয়ে এটা ওটা দেখি,পছন্দ হলে কিনে ফেলি।বাসে বসে বাহিরে তাকিয়েছি,একটু বৃষ্টি পড়ছে দেখলাম।নিচের দিকে চোখ যেতেই দেখি ২৮ বা ২৯ বছর বয়সের এক যুবক হাতে সিগারেট। বেশ ভালো ফিল নিয়ে টান দিচ্ছে সিগারেটে।আমার অবশ্য কখনোই মন্দ লাগে না কেউ সিগারেট খেলে।বরং মনে হয় পুরুষ মানুষের সিগারেট খাওয়া উচিত এতে তার পুরুষালী ভাব বেড়ে যায়।দেখলাম ছেলেটা তার সাথে তোলা এক যুবতীর ছবি দেখছে।বুঝতে বাকি নেই সেই যুবতী তার প্রিয়তমা। কি দারুণ ভালোবাসা।পরক্ষণেই দেখলাম ছবি দেখা শেষ করে সে গ্যালারী থেকে বের হলো। আমি আরো অবাক হলাম এটা দেখে, তার ওয়ালপেপারে সেই প্রিয়তমার ছবি।কিছুক্ষণের জন্য ভাবলাম তার প্রিয়তমা নিশ্চয়ই অনেক ভাগ্যবতী।
ভালোবাসা বড় অদ্ভুত।কখন কাকে কোথায় ভালো লাগে বলার অবকাশ নেই।তবে ভালোবেসে কি সত্যিই কেউ সুখি?হয়তোবা সুখের সংখ্যা নিতান্তই কম। মানুষ বড় অদ্ভুত প্রাণী,কেবল হারিয়ে গেলেই কদর করে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রায়হান, বার্তা সম্পাদকঃ সুজন চৌধুরী, ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপকঃ মোহাম্মদ এহসান,..।
Allright Reserve https://vision24bangla.net@2026