
আলীকদমের দুর্গম স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট
বান্দরবান পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী আলীকদম উপজেলা-এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যত ভেঙে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, উপজেলার ৪ নং করুকপাতা ইউনিয়নের কংচঙ ইয়াংছুং মারুম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাংলাই দাংলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খিদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। বছরে মাত্র কয়েকদিন শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন।
এই তিনটি বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেছেন। সরেজমিনে যাওয়া সংবাদকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদকর্মীদের আগমনের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একদিন পর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও অন্য দুই স্কুলের শিক্ষকরা যাননি। একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা তিনটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষক অনুপস্থিতির একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এসব বিদ্যালয়ে আগে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করলেও অনেকেই নিয়মিত স্কুলে যান না। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা বেতন-ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—কিছু বিদ্যালয়ে শুক্রবারে অষ্টম শ্রেণি পাস এক বর্গা শিক্ষক ক্লাস নেন। এমনকি শিক্ষার্থী এবং বর্গা শিক্ষকও জানেন না সংশ্লিষ্ট সরকারি শিক্ষকদের নাম। একটি বিদ্যালয়ের ব্ল্যাকবোর্ডে প্রতিদিনের তারিখ ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা হালনাগাদ করার নিয়ম থাকলেও সেখানে সর্বশেষ ৩০/০৫/২০২৫ ইং তারিখ লেখা দেখা যায়, যা দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকার ইঙ্গিত দেয়।
পাড়ার শিক্ষার্থীদের টিউশন পড়ানো স্থানীয় যুবক রারোই ম্রো জানান, বাস্তবে তিনিই অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পড়ান এবং বর্গা শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা একমাত্র শিক্ষক হিসেবেই চেনে। অভিযোগ রয়েছে, বর্গা শিক্ষকের বেতনও প্রায় ৪০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানান বর্গা শিক্ষক মেনথন ম্রো।
এদিকে, সরকার দুর্গম এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিদ্যালয় নির্মাণ করলেও তদারকির ঘাটতিতে সেই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে মুরংসহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
মংচিং হেডম্যন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আফসার বলেন, “কিছু শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদানকারী শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা চাই, সকল শিক্ষক দায়িত্বশীলভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকুন এবং শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখুন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতির অভিযোগ পাচ্ছেন এবং তদন্তে এর সত্যতা মিলেছে। এর আগে ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “দুর্গমতার কারণে মনিটরিং কঠিন হলেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনা জোনের সহযোগিতায় এসব বিদ্যালয়কে নজরদারির আওতায় আনা হবে। শিক্ষকরা দায়িত্বে অবহেলা করলে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, “যেসব শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বেতন বন্ধসহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতে অনিয়ম করে বেতন গ্রহণ করলে তা ফেরত আনার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য শিক্ষা থেকে আর বঞ্চিত না হয়।
সম্পাদকঃ মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রায়হান, বার্তা সম্পাদকঃ সুজন চৌধুরী, টেকনিক্যাল সাপোর্ট মোহাম্মদ এহসান,...উপদেষ্টা মন্ডলীঃ - ব্যারিস্টার রবিউল ইসলাম তরফদার, শাহ আলম সাগর, মোঃ আবুল হাসেম (কোম্পানি)।কার্যালয় ঠিকানা:- এটিসি ভবন, পান বাজার, আলীকদম, বান্দরবান। যোগাযোগ:-সম্পাদক +88 01616885650, ক্রাইম রিপোর্ট :- +88 01886-293719, বিজ্ঞাপন :- +88 01812-503067,e-mail: www.vision24bangla.net website: support@vision24bangla.netu
Allright Reserve https://vision24bangla.net@2026