Homeঅপরাধ ও আইনরাতের অন্ধকারে মাছ উধাও, আলোতে আসতেই সুপারের পাল্টা নাটক - সাংবাদিককে ফাঁসাতে...

রাতের অন্ধকারে মাছ উধাও, আলোতে আসতেই সুপারের পাল্টা নাটক – সাংবাদিককে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র 

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গভীর রাতে পুকুরের মাছ চুরি করে বিক্রির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সত্য গোপন করতে গিয়ে উল্টো সাংবাদিককে ফাঁসানোর অপচেষ্টায় নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির সুপার নূর মোহাম্মদ, এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত ২ তারিখে দৈনিক যশোর বার্তাসহ কয়েকটি স্থানীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসার সহকারী সুপার আবু জাফর, নৈশ প্রহরী খলিলুর রহমান ও দারোয়ান আশরাফ আলী গভীর রাতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অগোচরে পুকুর থেকে মাছ তুলে বিক্রি করেন। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য জানান, পূর্বে নিয়ম মেনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পুকুরটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয় এবং বায়না বাবদ ১০ হাজার টাকা জমাও নেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে ইজারাদার অনুপস্থিত থাকায়, কোনো প্রকার বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই সংশ্লিষ্টরা রাতের আঁধারে মাছ ধরার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।
এদিকে, ঘটনার সময় মাদ্রাসার সুপার নূর মোহাম্মদ দাবি করেছিলেন, পূর্বের ইজারাদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নতুনভাবে অস্থায়ী ইজারা দেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী ভোরে মাছ ধরা হয়েছে। তবে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়দের তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে সুপার নূর মোহাম্মদ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ তোলার পথ বেছে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্যে সংবাদকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে নিন্দা জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন পাঠদান ব্যাহত করে কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে তিনি মণিরামপুর থানায় গিয়ে দৈনিক যশোর বার্তার প্রতিনিধি এস এম তাজাম্মুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি অযৌক্তিক বিবেচনায় পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে সুপার নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি থানায় যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি। তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments